This website is under construction
Days Observed by Bangladesh Islami Chhatrashibir
6 May - Balakot Day

১৮৩১ সালের এই দিনে বালাকোটের ময়দানে এক অসম যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন শাহ সৈয়দ আহমদ ব্রেরলভি (রহ.) ও তাঁর সহযোদ্ধারা। ভারতীয় উপমহাদেশে তৎকালীন মুসলমানদের প্রাণ পুরুষ ছিলেন শাহ সৈয়দ আহমদ ব্রেরলভি (রহ.)। আজও তিনি অত্যন্ত সম্মানের পাত্র হয়ে আছেন। সেই সাথে ৬ মে স্বাধীনতা প্রিয় মুসলমানদের নিকট খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিন। বালাকোটের শহীদদের প্রেরণায় ভারতে মুসলমানগণ আজাদী আন্দোলনের মাধ্যমে পৃথক আবাসভূমি লাভে উজ্জীবিত হয়েছিলেন।

সারা উপমহাদেশ থেকে উৎসাহী যুবক ও ইসলামী চিন্তাবিদদের নিয়ে মুজাহিদ বাহিনী গঠন করেন শাহ সৈয়দ আহমদ ব্রেরলভি (রহ.)। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতাকামী মুজাহিদগণ ভারতের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রসিদ্ধ নগরী পেশোয়ার দখল করে সেখানেই প্রধান কর্মকেন্দ্র স্থাপন করেন।

সৈয়দ আহমদের বাহিনীর সাথে কয়েকটি যুদ্ধে শিখ ও ব্রিটিশ বাহিনী পরাজিত হয়। সারা ভারতের মুসলমানদের নিকট শাহ সৈয়দ আহমদ ব্রেরলভি (র.) অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। সম্মুখ সমরে মুজাহিদ বাহিনীর সাথে টিকে উঠা সম্ভব নয় এ ভেবে বৃটিশ ও শিখ নরপতিগণ কূটকৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করলো।

মুসলমান সমাজে বিশ্বাসঘাতক তথা মোনাফেকদের অভাব কোন কালেই ছিল না। সীমান্তের প্রধান জমিদার ও গোত্রপতিগণকে ইংরেজ ও শিখ শাসকেরা বিভিন্ন প্রকার লোভ দেখিয়ে বশীভূত করে ফেললো। মোনাফেক প্রধান সর্দারগণ মুজাহিদদের যাবতীয় তথ্যাদি ইংরেজ ও শিখদের নিকট গোপনে সরবরাহ করতে লাগলো এবং সুসংগঠিত মুজাহিদ বাহিনীর মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ভাঙন সৃষ্টি করতে লাগলো।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শাহ সৈয়দ আহমদ (র.) ও মাওলানা শাহ ইসমাঈল এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ পেশোয়ার থেকে ইসলামী রাষ্ট্রের কর্মকেন্দ্র স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। এ সংবাদও মুনাফেক সর্দাররা দুশমনদের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়। মোক্ষম সুযোগ বুঝে শিখ সেনাপতি শেরসিংহ তার বিশাল বাহিনী নিয়ে মুজাহিদদের মূল ঘাঁটি থেকে বিচ্ছিন্ন শাহ সৈয়দ আহমদ ব্রেরলভি (র.) ও শাহ মাওলানা ইসমাঈল (র.)কে বালাকোটে আক্রমণ করে বসে। শহীদি মৃত্যু প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ মুজাহিদদ্বয় আল্লাহর দ্বীনের স্বার্থে অতুলনীয় বীরদর্পে লড়াই করে শাহাদাতের অম্লান গৌরব অর্জন করেন।

১৮৩১ সালের ৬ মে বালাকোটের এই অসম সমরে শাহ সৈয়দ আহমদ ব্রেরলভি (র.) তার সহযোদ্ধাসহ যেভাবে অতুলনীয় বীরত্বের স্বাক্ষর রেখে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেলেন তাতে মুতা, ইয়ামামা ও কারবালার শহীদদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ঐ দিন তাঁরা পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাদেরই প্রেরণায় ভারতে মুসলমানগণ আজাদী আন্দোলনের মাধ্যমে পৃথক আবাসভূমি লাভে উজ্জীবিত হয়েছিলেন।