পাকিস্তান আমলে সর্বশেষ শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয় ১৯৬৯ সালে। এতে শিক্ষা ব্যবস্থার আদর্শিক ভিত্তি কী হবে—তা নিয়ে জনমত যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট তৎকালীন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সেই আলোচনা সভায় বামপন্থীদের বিরোধিতামূলক বক্তব্যের ভেতরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শহীদ আব্দুল মালেক মাত্র পাঁচ মিনিট বক্তব্য রাখেন। অসাধারণ মেধাবী ও বাগ্মী আব্দুল মালেকের সংক্ষিপ্ত অথচ যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য সভার পরিবেশ পুরোপুরি পরিবর্তন করে দেয়। উপস্থিত বহু শ্রোতা তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। তাঁর তত্ত্বনির্ভর ও দৃঢ় উপস্থাপনায় পূর্বে বক্তব্য রাখা ইসলামবিরোধী বক্তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাম সংগঠনের নেতা তোফায়েল আহমদ ও রাশেদ খান মেনন গংদের নেতৃত্বে কিছু উগ্রপন্থী ছাত্র আব্দুল মালেকের হামলা চালায়। সকল সঙ্গীকে নিরাপদে বিদায় দিয়ে শহীদ মালেক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় লোহার রড ও হকিস্টিক নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করা হয়। গুরুতর আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী ছাত্র আব্দুল মালেক।
তিন দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৫ আগস্ট তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ও আত্মত্যাগের স্মরণে তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নের নিয়মতান্ত্রিক দাবির প্রতীক হিসেবে পরবর্তীতে ১২ আগস্টকে ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।