This website is under construction
Days Observed by Bangladesh Islami Chhatrashibir
17 Ramadan - Badr Day
17 Ramadan - Badr Day

বদর যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ যা মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যে দ্বিতীয় হিজরিতে সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলিমরা সংখ্যায় অনেক কম হয়েও মক্কার কাফির শক্তিকে পরাজিত করে ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সূচনা করেন। এর মাধ্যমে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সূচিত হয়ে যায়। এজন্য এই যুদ্ধকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী যুদ্ধও বলা হয়। আল-কুরআনে এই দিনকে ইয়াওমূল ফুরক্বান বলা হয়।

২য় হিজরীর ১৭ই রামজান সংঘটিত বদর যুদ্ধ ছিল ইসলামি ইতিহাসের এক যুগান্তকারী অধ্যায়, তাওহীদ ও শিরকের প্রথম সরাসরি সশস্ত্র মোকাবিলা। হিজরতের মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই কুরাইশরা নানাভাবে মদীনায় মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মুনাফিকদের উসকানি, অর্থনৈতিক হুমকি, ইহুদিদের সঙ্গে গোপন আঁতাত এবং প্রকাশ্য সামরিক চাপ, এই প্রেক্ষাপটেই আল্লাহ তাআলা জুলুমের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধের অনুমতি দেন।

বদর যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বাধীন কুরাইশ বাণিজ্য কাফেলা, যার সম্পদ মদীনায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। রাসূলুল্লাহ (দ.) ৩১৩ জনের ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হন। অপরদিকে অহংকারে অন্ধ আবু জাহেল প্রায় এক হাজার সৈন্য নিয়ে বদরের দিকে ধেয়ে আসে, যদিও কাফেলা নিরাপদে পালিয়ে গিয়েছিল।

পরামর্শ সভায় মুহাজির ও আনসারদের অকুণ্ঠ সমর্থন রাসূল (দ.)-কে দৃঢ়তা দেয়। বদরের ময়দানে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য নাযিল হয়—বৃষ্টি, তন্দ্রা ও ফেরেশতাদের সহায়তায় মুসলিম বাহিনী ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করে। কুরাইশের ৭০ জন নিহত ও ৭০ জন বন্দী হয়, আর মুসলমানদের শহীদ হন ১৪ জন।

এই যুদ্ধ শুধুমাত্র একটি সামরিক বিজয় নয়, বরং ঈমান, শৃঙ্খলা, ন্যায় ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। বন্দীদের প্রতি দয়া, শিক্ষার বিনিময়ে মুক্তি এবং নেতৃত্বের নৈতিকতা বদরের মূল শিক্ষা। বদরের শিক্ষাকে ধারণ করতে ছাত্রশিবির প্রতিবছর এই দিনটিকে 'বদর দিবস' হিসেবে পালন করে থাকে।