৬ ডিসেম্বর উপমহাদেশের ইতিহাসে গভীরভাবে আলোচিত ও বিতর্কিত একটি দিন। ১৯৯২ সালের এই দিনে ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাটি শুধু একটি স্থাপনা ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ভারতীয় উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
বাবরি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল ১৫২৮ সালে, মুঘল সম্রাট বাবরের আমলে। বহু বছর ধরে এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ইবাদতের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে স্থানটি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী একটি গোষ্ঠী দাবি করে যে এটি হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী রামচন্দ্রের জন্মস্থান। এ দাবিকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর, বিশাল জনসমাবেশের মধ্যে মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর ভারতজুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ প্রাণ হারান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ ঘটনা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে বিষয়টি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। ২০১৯ সালে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বিতর্কিত জমির রায় ঘোষণা করে। আদালতের রায় অনুযায়ী, বিতর্কিত জমি হিন্দু পক্ষের ট্রাস্টের অধীনে মন্দির নির্মাণের জন্য প্রদান করা হয় এবং মুসলিম পক্ষকে বিকল্প জমি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ভারতীয় উপমহাদেশের এ গুরুত্বপূর্ণ মসজিদটি ভেঙে ফেলার ইতিহাসকে স্মরণে রেখে এ দিনটিকে 'বাবরী মসজিদ দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।