This website is under construction
কুবি শিক্ষকের সন্তান অপ্রতীম হত্যাকাণ্ড ও দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ

Protest over the Killing of a CoU Teacher’s Child, Opratim, and Deteriorating Law and Order Nationwide

19 September 2026 at 16:20

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে, সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকায় এ ধরনের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড দেশের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম বহিঃপ্রকাশ। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।” নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “কুমিল্লায় অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; বরং গত কয়েক দিনে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া একাধিক নৃশংসতার ধারাবাহিকতায় এটি জননিরাপত্তার অবনতিরই প্রতিফলন। সম্প্রতি ময়মনসিংহে কিশোরের হাতে শিশু খুন, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ড এবং বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং গণহত্যাকারী নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের জ্বালাও-পোড়াওসহ বিভিন্ন অপরাধের বিস্তারে জনমনে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।”

বিবৃতিতে ছাত্রনেতৃবৃন্দ বলেন, “চলতি সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ঢাকায় ১১ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী তানিয়ার ওপর দীর্ঘদিন ধরে চালানো অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। এ ছাড়া শিশু আছিয়া, রামিসাসহ বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত শিশু হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে বারবার এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এসব ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তা, সামাজিক মূল্যবোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।”

নেতৃবৃন্দ দেশের ক্রমবর্ধমান অরাজক পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে বলেন, “৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত পতিত স্বৈরাচারের দোসররা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে নানামুখী তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। তারা বোমাবাজি, জ্বালাও-পোড়াওসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। অথচ এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রশাসনের উদাসীনতা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও কার্যকর করার দাবি জানান।

পরিশেষে নেতৃবৃন্দ অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সারা দেশে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁরা নিহত অপ্রতীমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।