This website is under construction
ভেরিফিকেশনের অজুহাতে চাকরিপ্রার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি

Protest against excluding job seekers on verification grounds; demand for clear guidelines

25 September 2026 at 17:24

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ মেধাবী প্রার্থীদের ভেরিফিকেশনের নামে চাকরির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রার্থী বাদ দেওয়া বন্ধের দাবি জানানো হয়। সরকারি চাকরিতে নিয়োগসহ সর্বক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদের অন্ধ অনুকরণ করছে উল্লেখ করে আজ ২৫ সেপ্টেম্বর এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ ও দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু ভেরিফিকেশন শেষে বিভিন্ন জেলার বহু সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫-এর আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্মের অভিযোগ অনুযায়ী, ১২ শতাধিক প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাদ পড়া অনেক প্রার্থীর দাবি, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই এবং তাদের বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণও জানানো হয়নি।”

নেতৃবৃন্দ বলেন, “ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে বিবেচনায় নিয়ে কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অভিযোগও উঠেছে যে, বিএনপি ও ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলে কিংবা পরিবারের কেউ জামায়াত বা এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে প্রার্থীদের নিয়োগ আটকে দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা দেশের জন্য অশনিসংকেত। আমরা দেখতে পাচ্ছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিচারবিভাগ, মাঠ প্রশাসন, সচিবালয়সহ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপির অনুকূলে নজিরবিহীনভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে।”

নেতৃবৃন্দ বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। অথচ সুস্পষ্ট কোনো কারণ না দেখিয়েই শত শত মেধাবী তরুণের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেওয়া হচ্ছে, যা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংঘটিত জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে চূড়ান্ত প্রতারণার শামিল। মাঠপর্যায়ে বিএনপির নির্বাচিত এমপি-মন্ত্রীদের ‘লিখিত পরীক্ষায় পাস করলে বাকিটা আমরা দেখব’—এমন আশ্বাস কিংবা বিএনপির ত্যাগী নেতাদের চাকরি, ডিলারশিপ ও ঠিকাদারির মাধ্যমে মূল্যায়নের ঘোষণা প্রমাণ করে, বিএনপি সরকার সরকারি চাকরিতে নিয়োগসহ সর্বক্ষেত্রে নগ্ন দলীয়করণ ও ফ্যাসিবাদের অন্ধ অনুকরণ করছে।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “ভেরিফিকেশন একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও একজন প্রার্থীকে কোন সুনির্দিষ্ট কারণে বাদ দেওয়া হচ্ছে, তার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু বর্তমানে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় কী যাচাই করা হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হবে, তা সুস্পষ্ট নয়। ফলে এটি সরকারি দলের দলীয়করণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ভেরিফিকেশনের পর প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো, আত্মপক্ষ সমর্থন ও আপিলের সুযোগ রেখে ভেরিফিকেশন পদ্ধতি পুনর্গঠন এবং মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রদান ও দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা, ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া প্রার্থীদের বিষয় পুনঃযাচাই এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ বাতিলের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”