Government accused of pursuing blatant politicization by denying qualified students their right to jobs
কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায়, অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট থেকে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তাদের চাকরির অধিকার হরণ এবং প্রশাসনকে নির্লজ্জ দলীয়করণের দিকে ধাবিত করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ ১ অক্টোবর এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “রাষ্ট্রের প্রতিটি বৈধ নাগরিকের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরি পাওয়ার অধিকার বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, বর্তমান প্রশাসন কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যোগ্য প্রার্থীদের গেজেট থেকে বাদ দিয়েছে। এমনকি মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া প্রার্থীদেরও গেজেট থেকে ছাটাই করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অভিযোগও উঠেছে যে, জামায়াত, এনসিপি সঙ্গে পারিবারিক বা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পাশাপাশি কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা যোগ্য প্রার্থীদেরও গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা দেশের জন্য অশনিসংকেত।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণ করা কিংবা পছন্দের রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করা একজন নাগরিকের অধিকার। এসব কারণে কোনো নাগরিককে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করার প্রবণতা মূলত ফ্যাসিবাদী শাসনের পথকেই উন্মুক্ত করে। জুলাই গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের কোনো দোসর ব্যতিত সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা জুলাইয়ের পক্ষের ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী যোগ্য প্রার্থীদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “ছাত্রজনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যের অবসান ও মেধার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা। সেই রক্তের দাগ শুকানোর আগেই বিএনপি সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করে আরেকটি নতুন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে। ভাইভায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর বৃদ্ধির সুপারিশ, ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ, মাঠ প্রশাসন ও সচিবালয়সহ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপির অনুকূলে নজিরবিহীনভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “একদিকে শিক্ষার্থীদের চাকরির অধিকার কেড়ে নেওয়া, অন্যদিকে অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারকে দলীয়করণের অবাধ সুযোগ তৈরি করে রাখা দেশের মেধাবী তরুণদের স্বপ্ন নিয়ে খেলতামাশার শামিল। ভেরিফিকেশনের পর কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো, আত্মপক্ষ সমর্থন ও আপিলের সুযোগ রাখা এবং মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভেরিফিকেশন পদ্ধতি পুনর্গঠন করতে হবে।"
আমরা অনতিবিলম্বে বঞ্চনার শিকার সব যোগ্য প্রার্থীর চাকরির সাংবিধানিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে সম্পূরক গেজেটের মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় মেধার অধিকার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ছাত্রসমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।”