This website is under construction
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি
Shaheed Sharif Osman Hadi
Date of Shahadat
:
18 December 2025

শরীফ ওসমান বিন হাদি বা ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সংস্কৃতির আধিপত্যবাদের বিপরীতে বাংলাদেশী সংস্কৃতির জাগরণের উদ্দেশ্যে গঠিত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। জুলাই গণঅভ্যূত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, শহীদদের অধিকার রক্ষা, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকার কারতে তিনি আলোচনায় আসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় তার মাথায় গুলি করেন আততায়ীরা। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে নয়টায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ওসমান হাদি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শরীফ আব্দুল হাদি একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম ছিলেন। ৬ ভাইবোনের (৩ ভাই, ৩ বোন) মধ্যে হাদি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি আলিম (এইচএসসি) সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। হাদি ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স নামক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতা করেন। তিনি সীমান্ত শরিফ ছদ্মনামে ২০২৪ সালের একুশে বইমেলায় দুয়ার প্রকাশনী থেকে লাভায় লালশাক পুবের আকাশ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।

তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে জুলাই গণ অভ্যূত্থানের চেতনা অনুযায়ী নতুন ধারার রাজনীতির স্বপ্ন দেখতন। ক্ষুরধার বক্তৃতা ও ভিন্নধর্মী নির্বাচনী প্রচারণার কারণে তিনি সাধারণ জনগেেণর মাঝে ব্যাপক সমর্থন পান। তার শাহাদাতের পর দেশের সকল স্তরের মানুষের মাঝে তীব্র সাড়া পড়ে। তার জানাজায় আনুমানিক ১৪ লক্ষ লোক অংশগ্রহণ করেন।

এক নজরে শহীদ শরীফ ওসমান হাদিঃ

নাম: শরীফ ওসমান বিন হাদি (ওসমান হাদি)
পিতা: শরীফ আব্দুল হাদি
জন্ম তারিখ: ৩০ জুন ১৯৯৩
ভাই বোন: তিন ভাই তিন বোন
স্থায়ী ঠিকানা: নলছিটি, ঝালকাঠি।
পেশা: শিক্ষক, লেখক ও রাজনীতিবিদ।
শাহাদাতের তারিখ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
শাহাদাতের কারণ: গুলিবিদ্ধ (বিজয়নগর, ঢাকা)
শাহাদাতের স্থান: সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল, সিঙ্গাপুর।
সমাধিস্থল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে।