এই ওয়েবসাইটটি এখনো নির্মাণাধীন
Chhatrashibir
Missing translation "site-name" for locale "bn-bd"
বাংলা
Eng
العربية
বন্ধ করুন
কর্মপদ্ধতি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
পঞ্চম দফা কর্মসূচিঃ ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ

“অর্থনৈতিক শোষণ,রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং সাংস্কৃতিক গোলামী হতে মানবতার মুক্তির জন্য ইসলামী সমাজ বিনির্মানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো।”

এখানে অবশ্য মনে রাখতে হবে আমরা ছাত্র। ছাত্র সমাজ নিয়েই আমাদের আন্দোলন। তাই ছাত্রত্বকে বিসর্জন দিয়ে আমরা কোন তৎপরতা চালাতে প্রস্তুত নই। একটি দায়িত্বশীল ছাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমসাময়িক রাজনৈতিক তৎপরতার সাথে আমাদের তৎপরতাকে একাকার করে দিতে পারি না। তাই বলে জাতীয় সংকটের মুহূর্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে আমরা বিরতও থাকতে পারি না। এর অর্থ এই নয় যে সাধারণ অবস্থায় আমরা জাতীয় সমস্যা থেকে দূরে থাকি। আত্মসচেতনতার সাথে আমরা জাতীয় সমস্যা অবলোকন করি এবং তা দূর করতে বলিষ্ঠ ও গণমূখি ভূমিকা পালন করি। সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ইসলামী পরিবেশ তৈরি করার জন্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। এ ব্যাপারে সংগঠনের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী কমিটি কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে বাস্তব এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। দু’ভাবে আমরা এ দফার কাজ করে থাকি।

প্রথমত:

ইসলামী সমাজ বিনির্মান মুখের কথায় বা স্লোগানের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব ও কর্মীবাহিনী গঠন

(ক) ক্যারিয়ার গঠন:

আমাদের প্রত্যেককে Career গঠনের ব্যাপারে সবিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কোন অবস্থাতেই ক্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্থ করা যাবে না। আসলে আমাদের সংগঠনে যে সমস্ত কাজ রয়েছে তা সম্পন্ন করতে গিয়ে ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্থ করার প্রয়োজন হয় না। শুধু প্রয়োজন বাস্তব অনুভূতি,ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অক্লান্ত পরিশ্রম। এক্ষেত্রে কোন ব্যতিক্রম হলে তা বিশেষ পরিস্থিতিতেই হয়। বস্তুতঃ ক্যারিয়ারকে অক্ষুন্ন রেখে যে সংগঠনের কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম সেই ভালো কর্মী। এ ধরণের কর্মীই আমাদের কাম্য।

(খ) নেতৃত্ব তৈরি :

সঠিক নেতৃত্বের অভাবেই জাতি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দুর্যোগের সম্মুখীন হয়। ইসলামী সমাজ বিনির্মান সাধন তো দূরের কথা জাতির সাধারণ কোন কাজও সঠিক নেতৃত্ব ব্যতিরেকে সুসম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এজন্যে নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন কর্মীদেরকে সংগঠনের যাবতীয় তৎপরতা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার যাবতীয়-ক্ষেত্র যেমন-প্রশাসন,প্রকৌশল,শিক্ষা,কৃষি, শিল্প,পার্লামেন্ট ইত্যাদির প্রতিটি ক্ষেত্রে যথার্থ পরিচালক প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদী ও বাস্তবমূখী পরিকল্পনার মাধ্যমে আপনাদেরকে এ প্রয়োজন পূরণ করতে হবে। তাই কর্মী নিজে অথবা সংগঠনের পরামর্শে যে কোন একটি বিভাগকে টার্গেট করে নেবে। তারপর উক্ত বিভাগের একজন এক্সপার্ট হিসেবে গড়ে উঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। মোটকথা, আমরা সত্যিকার মুসলিম চিকিৎসক,মুসলিম প্রশাসক ইত্যাদি তৈরি করতে চাই।

(গ) কর্মী গঠন:

ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা ও ইসলামী সমাজ বিনির্মান সাধনের জন্য একদল সুশৃংখল কর্মীবাহিনীর প্রয়োজন। এ সংগঠন তার যাবতীয় তৎপরতার মাধ্যমে উপরোক্ত প্রয়োজন পূরণ করতে চায়। অতএব সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম যথার্থভাবে মেনে চলাই এক্ষেত্রে আমাদের কাজ।

(ঘ) জ্ঞান অর্জন:

রাজনীতি, অর্থনীতি, শাসনতন্ত্র ইত্যাদি ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার পরিবর্তে এতদসংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করাকেই আমরা প্রাধান্য দিয়ে থাকি। নিম্নোক্ত দিকগুলোকে সামনে রেখে আমাদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

সর্বপ্রথম চরিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান আমাদের থাকতে হবে। জাতীয় চরিত্রের বর্তমান বিপর্যস্ত অবস্থার অন্তর্নিহিত কারণ আমাদের উদ্ঘাটন করতে হবে এবং সমাধানের সঠিক পথ জানতে হবে।

দেশের রাজনৈতিকি পরিস্থিতি সর্ম্পকে প্রয়োজনীয় ধারণা রাখতে হবে। ইতিহাস,ঘটনাপ্রবাহ ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে বর্তমান রাজনৈতিক গতিধারার উৎস খুঁজে বের করতে হবে,রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যে সমস্ত দল সক্রিয় রয়েছে তাদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য জানতে হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ সংক্রান্ত প্রয়াজনীয় মৌলিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাদের কোনটা কল্যাণকর এবং কোনটা ক্ষতিকর তা বুঝতে হবে। রাজনৈতিক সমস্যার সঠিক সমাধান কি,এ সমাধান কোন পথে আসতে পারে তার প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করতে হবে অর্থনৈতিক সমস্যার গতিধারার ও রূপরেখা জানাও আমাদের প্রয়োজন। বর্তমানে যে ধরনের অর্থনীতি চালু আছে তার মূল ব্যবস্থাদি সংক্রান্ত জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এছাড়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে সঠিক পথ ও পন্থা ইত্যাদি বিষয়ে স্পষ্ট জ্ঞান থাকা চাই।

সাংস্কৃতিক গোলামীর ভয়াবহতা সম্পর্কে আমাদের বাস্তবমূখী জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কি কি ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালু আছে তার উৎস, রূপ ও ব্যাপকতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক। কোথায় কোন পদ্ধতিতে কোন নীতিমালার উপর ভিত্তি করে আঘাত হানলে সাংস্কৃতিক গোলামী থেকে আমরা মুক্তি পাবো তা যথার্থ জ্ঞানের মাধ্যমে উপলব্ধি করতে হবে।

মোট কথা,বাতাসের উপর ভিত্তি করে আমরা চলতে চাই না। ইসলামী সমাজ বিনির্মান নামে মরিচিকার পিছনে ছুটতে আমরা নারাজ। আমাদের আবেদন, আমাদের যাবতীয় তৎপরতা হবে যুক্তিনির্ভর ও বুদ্ধিভিত্তিক। ইসলামী মূলবোধের ভিত্তিতে চারিত্রিক প্রতিফলনই হবে আমাদের কাজের মূল হাতিয়ার।

দ্বিতীয়ত :

বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ ও এক্ষেত্রে দু’ধরনের কাজ আমাদেরকে করতে হবে।

(ক) সহযোগিতা:

ইসলামী আন্দোলনের যে কোন বৃহত্তর প্রচেষ্টাকে সহায়তা করা আমরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। তবে তা আমরা করে থাকি সংগঠনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।

(খ) পরিবেশ সৃষ্টি ও চাপ:

চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে জাতীয় জীবনে একটা পবিত্র পরিবেশ সৃষ্টির তৎপরতা চালাতে হবে। এ তৎপরতা যখন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ছাত্রদেরকে সংশ্লিষ্ট করতে পারবে তখন সমাজ ও জাতীয় জীবনে তা একটি শক্তিরূপে আত্মপ্রকাশ করবে। আর এহেন চারিত্রিক শক্তি দিয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করতে বদ্ধপরিকর।

এছাড়াও আমরা আমাদের ৫ম দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্যে সময় সুযোগ ও সামর্থ অনুযায়ী জনগণের অংগনে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়ে জনমত সংগ্রহ করতে চাই। সভা, মিছিল, ধর্মঘট ইত্যাটি প্রয়োজনরে পরিপ্রেক্ষিতে এবং গঠনমূলক পন্থায় করে থাকি।

উপরোক্ত কাজগুলোই হলো আমাদের সংগঠনের পাঁচ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের সঠিক পন্থা। যিনি আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব পালন করতে চান তাঁকে এ কাজগুলো ক্রমান্বয়ে আঞ্জাম দিতে হবে।