এই ওয়েবসাইটটি এখনো নির্মাণাধীন
Chhatrashibir
Missing translation "site-name" for locale "bn-bd"
বাংলা
Eng
العربية
বন্ধ করুন
কর্মপদ্ধতি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
তৃতীয় দফা কর্মসূচি : প্রশিক্ষণ

“এই সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ ছাত্রদেরকে ইসলামী জ্ঞান প্রদান এবং আদর্শ চরিত্রবানরূপে গড়ে তুলে জাহেলিয়াতের সমস্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মী হিসেবে গড়ার কার্যকরী ব্যবস্থা করা।”

অর্থাৎ সংঘবদ্ধ ছাত্রদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। একদল ছাত্রকে শুধু সংঘবদ্ধ করলেই আমাদের কাজ শেষ হয় না। প্রকৃতপক্ষে এখানেই আমাদের কাজ শুরু। যারা আমাদের সাথে সংগ্রাম করার প্রতিশ্রুতি দিলেন তাদেরকে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ও জাহেলিয়াতের তুলনামূলক জ্ঞানার্জনে সাহায্য করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে তারা জাহেলিয়াতের যাবতীয় চ্যালেঞ্জ সাহসিকতা ও যুক্তি প্রয়োগে মোকাবিলা করতে পারেন। এমন প্রশিক্ষণ দেয়া যেন তারা ইসলামকে একমাত্র বাস্তব আদর্শ হিসেবে বুঝতে পারেন এবং পেশ করতে পারেন। তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন তারা অনুপম চারিত্রিক মাধুর্যের অধিকারী হতে পারেন। প্রত্যেকে যেন আল-কুরআনের আলোকে নিজেদেরকে গড়ে তুলে জাতিকে সঠিক নেতৃত্ব দেয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করতে এবং বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনে ফলপ্রসূ ভুমিকা পালন করতে পারেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শত বাধা বিপত্তির ভিতর দিয়েও যেন তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে থাকতে পারেন।

এছাড়াও শরীর চর্চা, খেলাধূলা ও চিত্তবিনোদনমূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করে সংঘবদ্ধ ছাত্রদের দৈহিক ও মানসিক শক্তিসমূহের বিকাশ ঘটাতে হবে। এ দফার সাফল্যজনক বাস্তবায়নের উপরই সংগঠনের শক্তি, সাংগঠনিক মজবুতি, কর্মী ও দায়িত্বশীল তৈরি নির্ভরশীল। নিম্নোক্ত কাজগুলো এ দফায় অন্তর্ভূক্ত :

(ক) পাঠাগার প্রতিষ্ঠা

(খ) ইসলামী সাহিত্য পাঠ ও বিতরণ

(গ) পাঠচক্র, আলোচনা চক্র, সামষ্টিক পাঠ ইত্যাদি

(ঘ) শিক্ষাশিবির, শিক্ষাবৈঠক

(ঙ) স্পীকারস ফোরাম

(চ) লেখকশিবির

(ছ) শববেদারী বা নৈশ ইবাদত

(জ) সামষ্টিক ভোজন

(ঝ) ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষণ

(ঞ) দোয়া ও নফল ইবাদত

(ট) এহতেছাব বা গঠনমূলক সমালোচনা

(ঠ) আত্মসমালোচনা

(ড) কুরআন তালিম/কুরআন ক্লাস

(ক) পাঠাগার প্রতিষ্ঠা

আমাদের সংগঠন জ্ঞানের রাজ্যে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়। যেহেতু এটা একটা আদর্শবাদী আন্দোলন, সেহেতু আদর্শের যথার্থ জ্ঞানের প্রতি প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে। এ কারণেই যেখানেই সংগঠন রয়েছে সেখানেই কর্মীদেরকে নিজেদের ও অন্যান্যদের আর্থিক সহযোগীতায় একটি পাঠাগার স্থাপন করতে হয়। বই-পত্রের যথার্থ হিসেব, পাঠ্য ও ইস্যুকৃত বইয়ের হিসেব সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করতে হবে। একজন সম্পাদকের তত্ত্বাবধানে পাঠাগার পরিচালিত হয়। পাঠাগারকে ক্রমান্বয়ে মজবুত করার জন্য প্রতিমাসেই পরিকল্পনার ভিত্তিতে বই-পত্র কিনতে হয়।

(খ) ইসলামী সাহিত্য পাঠ ও বিতরণ

ইসলামী জীবন ব্যবস্থার উপর বা এর কোনদিক যথাঃ নামায, রোযা, ঈমান, তাকওয়া, অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে কুরআন ও হাদীসের উপর ভিত্তি করে যে সাহিত্য রচিত হয় তা ইসলামী সাহিত্য। আবার ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে যে আন্দোলন সে আন্দোলন সংক্রান্ত যাবতীয় সাহিত্যও ইসলামী সাহিত্য। পাঠাগার থেকে নিয়মিত বই নিয়ে কর্মীদের পড়তে হয়। প্রত্যেক কর্মীর নিকট দাওয়াতী কাজের বইগুলো থাকা একান্ত বাঞ্ছনীয়। যে কোন কর্মীকে বই বিতরণের পূর্বে বইটি নিজে পড়ে নিতে হয় যেন যার নিকট বিতরণ করা হল তার সাথে উক্ত বই সম্পর্কে সঠিক আলোচনা করা যায় এবং তার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়। মনে রাখা দরকার যে, জ্ঞানই মানুষের চিন্তার পরিশুদ্ধি আনে। তাই যত বেশি নিজে পড়া যায় ও অন্যান্যদের পড়ানো যায় ততই বেশি কর্মী তৈরি হয়। পাঠকের মানসিকতা না বুঝে বই বিতরণ করলে উল্টো ফল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

(গ) পাঠচক্র

পাঠচক্র মানে কয়েকজন মিলে কোন বই বা বিষয় আলোচনা করে গভীরভাবে বুঝবার চেষ্টা করা এবং পরস্পরের চিন্তার বিনিময় করা। মানুষের চিন্তা ও গ্রহণশক্তি সীমাবদ্ধ। কোন একটি বই বা বিষয় একা একা পড়ে যথার্থ হৃদয়ঙ্গম করা যায় না। এজন্য প্রয়োজন মানুষের চিন্তা শক্তির সংমিশ্রন। পাঠচক্র থেকে আমরা এ উপকার পেতে পারি। পাঠচক্র চিন্তা ও গবেষণাসুলভ দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়। এতে যুক্তি ও বুদ্ধির দীপ্তি বৃদ্ধি পায়। অপরকে বুঝানোর উৎসাহ ও যোগ্যতা বাড়ে। প্রত্যেক শাখায় পাঠচক্রের আয়োজন একান্ত জরুরী। এক্ষেত্রে পূর্বাহ্নে কেন্দ্রের অনুমতি নেয়া প্রয়োজন। যথার্থ নিয়মনীতি মেনে না চললে পাঠচক্রে তেমন কোন লাভ হয় না। এজন্য চক্রের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত নিয়মাবলী মেনে চলতে হয়।

(১) চক্রের সদস্য সংখ্যা পূর্ব নির্ধারিত থাকবে।

(২) প্রতিটি চক্র কমপক্ষে তিন মাস চালু রাখতে হবে।

(৩) চক্রের মাসে অন্তত একটি অধিবেশন হবে।

(৪) অধিবেশন দেড় ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।

এছাড়াও প্রয়োগ পদ্ধতি হিসেবে নিম্নোক্ত শর্তসমূহ মেনে চলা আবশ্যক-

(ক) সদস্য নির্দিষ্টকরণ: প্রতিটি চক্রের জন্য সমমানের কর্মী বাছাই করতে হবে।

প্রত্যেকে যেন ঈমান, জ্ঞান, তাকওয়া ও সাংগঠনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমমানের হয়।

(খ) পরিচালক নির্ধারণ: কেন্দ্রীয় সভাপতির প্রতিনিধি পাঠচক্রের পরিচালক হবেন

(গ) বিষয়বস্তু নির্ধারণ: বছরের শুরুতে একটি নির্ধারিত সিলেবাস প্রনীত হবে

(ঘ) লক্ষ্য নির্ধারণ: পূর্বেই পাঠচক্রের লক্ষ্য কি, তা ঠিক করে নিতে হবে। পাঠচক্র চলাকালে লক্ষ্যের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে যেন চক্র শেষে লক্ষ্যে পৌঁছা যায়।

(ঙ) অধ্যয়ন: পাঠচক্রের জন্য অধ্যয়ন বিশ্লেষণমূলক হতে হবে।

(চ) নোট: চক্রের সদস্যগণ বই বা বিষয়বস্তুর উপর নোট রাখবেন। এক-যে বই বা

বিষয়বস্তু অধ্যয়ন করা হল তার শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ। দুই-অধ্যয়নকালে যে সমস্ত প্রশ্ন

মনে জাগে।

(ছ) সময়ানুবর্তিতা।

(জ) মনোযোগ: চক্র চলাকালে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা ও সুষ্পষ্ঠভাবে বক্তব্য পেশ করা প্রয়োজন।

(ঝ) সক্রিয় সহযোগিতা: শুধু পরিচালক প্রশ্ন করলেই চলবে না। সদস্যদেরকে

স্বতঃস্ফুর্তভাবে প্রশ্ন করতে হবে। গোটা চক্রকে কার্যকরী করার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা

চালাতে হবে।

কার্যসূচীঃ

  • উদ্বোধন ৫ মি.

  • নির্ধারিত বিষয়ের উপর আলোচনা ১ ঘন্টা

  • পূর্বনির্ধারিত বিষয়ের উপর দেয়া কাজ আদায় ২০ মি.

  • শেষ কথা ৫ মি.

আলোচনা চক্র (কর্মীদের):

বাছাইকৃত কর্মীদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় ও বইয়ের উপর একজন পরিচালকের অধীনে নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য নিয়ে আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনাচক্রের সর্বোচ্চ সময় হবে ৪৫ মি.। এতে নিম্নের কার্যসূচী থাকবে :

কার্যসূচী:

  • উদ্বোধন- ৫ মি.

  • নির্ধারিত বই বা বিষয়ের উপর আলোচনা- ৩০ মি.

  • প্রশ্নোত্তর- ১০ মি.

আলোচনা চক্র (সাথীদের):

সাথীদের মানোন্নয়ন, কোন বিষয় বা বই অনুধাবন ও পারস্পরিক মত বিনিময়ের মাধ্যমে চিন্তার ঐক্যসাধনের লক্ষ্যে বাছাইকৃত সাথীদের নিয়ে সাথীদের আলোচনা চক্র অনুষ্ঠিত হবে। একজন পরিচালকের অধীনে নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য নিয়ে নির্দিষ্ট বই বা বিষয়ের উপর আলোচনা চক্র হবে।

চক্রের সর্বোচ্চ সময়- দেড় থেকে দুই ঘণ্টা হতে পারে।

কার্যসূচীঃ

  • উদ্বোধন- ৫ মি.

  • নির্ধারিত বিষয়ের উপর আলোচনা- ১ ঘণ্টা

  • নির্ধারিত বিষয়ের উপর দেয়া কাজ আদায়- ২০ মি.

  • শেষ কথা- ৫ মি.

সামষ্টিক পাঠঃ

কুরআন,হাদীস,কোন একটি বই বা তার অংশ বিশেষ সমষ্টিগতভাবে পালাক্রমে পাঠ ও আলোচনা করা মানেই সামষ্টিক পাঠ। এতে কোন বই বা বইয়ের অংশ বিশেষ সহজভাবে বুঝা যায়। ৭/৮ জন সদস্য মিলে অধ্যয়ন করতে হয়। এর কোন ভিন্ন ভিন্ন অধিবেশন হয় না। নতুন কর্মী ও সক্রিয় সমর্থকদের নিয়ে সামষ্টিক পাঠ করা বেশি প্রয়োজন।

সামষ্ঠিক পাঠে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা সময় নেয়া যায়। এর কার্যসূচী নিম্নরূপঃ

কার্যসূচীঃ

  • অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত- ৫ মি.

  • নির্দিষ্ট বিষয় অথবা বইয়ের উপর আলোচনা- ৪০ মি.

  • বিবিধ বিষয়ে আলোচনা- ১৫মি.

(ঘ) শিক্ষা শিবিরঃ

জনশক্তির চরিত্র ও স্বভাব সংশোধন, ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি,ইসলামী জ্ঞান অর্জনের ব্যবস্থা,নেতৃত্বের দক্ষতা, সাংগঠনিক প্রজ্ঞা,কৌশলগত যোগ্যতা বৃদ্ধি,ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ করা,কোন বিশেষ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলা ইত্যাদির লক্ষ্যে সময় নিয়ে যে কর্মসূচি তাই শিক্ষা শিবির। আমাদের সাংগঠনিক জীবনে এরূপ শিক্ষা শিবিরের গুরুত্ব অত্যাধিক।

শিক্ষা শিবিরের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করতে হয়। নির্বাচিত জনশক্তিই এতে অংশগ্রহণ করবে। এতে একসংগে থাকা,খাওয়া,নামাজ পড়া,আলোচনা শুনা প্রভৃতি কাজের উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন। শিক্ষা শিবিরের জন্য পূর্বেই উর্ধ্বতন সংগঠনের অনুমতি নিতে হয়। এর কার্যসূচী সংগঠনের অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত হয়।

শিক্ষা শিবিরের ধরণ

১. দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবির

৫ থেকে ১০ দিন

অংশগ্রহণকারী সর্বোচ্চ ৫০

২. দক্ষতা উন্নয়ন শিক্ষাশিবির

৭ থেকে ১৫ দিন

অংশগ্রহণকারী সর্বোচ্চ ১৫-২৫

৩. সাধারণ শিক্ষাশিবির (সদস্য/সাথী)

৩ দিন

অংশগ্রহণকারী সর্বোচ্চ ১০০ জন হওয়াই বাঞ্ছনীয়

৪. কর্মী শিক্ষাশিবির

ক. স্কুল কর্মীদের (২৪ ঘণ্টা) শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১০০ জন হওয়া বাঞ্ছনীয়।

[বৃহস্পতিবার বাদ আসর শুরু শুক্রবার সন্ধার মধ্যে শেষ]

খ. অগ্রসর কর্মী শিক্ষাশিবির পূর্ণ ২ দিন -১০০ জন শিক্ষার্থী হওয়া বাঞ্ছনীয়।

শিক্ষা বৈঠকঃ

কর্মী বা সক্রিয় সমর্থকদের কাছে ইসলামের যথার্থ পরিচয় তুলে ধরা, ইসলামী আন্দোলনের সঠিক ধারণা ও গুরুত্ব পরিষ্কার করা, কোন বিশেষ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি বা ধারণা পরিষ্কার করার লক্ষ্যে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার কর্মসূচিই শিক্ষা বৈঠক। নির্দিষ্ট সংখ্যক নির্ধারিত কর্মী এতে যোগদান করেন। যেখানে কর্মী বেশি সেখানে একাধিক শিক্ষা বৈঠক হতে পারে। সম্ভব হলে প্রতিমাসেই শিক্ষা বৈঠক হওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষাশিবির ও শিক্ষা বৈঠকের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর দিকে নজর রাখা প্রয়োজন :

১. শিক্ষাশিবির ও শিক্ষা বৈঠকের শিক্ষার্থী নির্বাচনে মানের সমতার প্রতি লক্ষ্য রাখা। (মেধা, অভিজ্ঞতা, বয়স, সাংগঠনিক মান)

২. প্রশিক্ষক নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যক্তির আমল, জ্ঞানের গভীরতা, অভিজ্ঞতা,উদ্ভাবনী ও বিশ্লেষণী শক্তি, বক্তব্য উপস্থাপনে কৌশলগত দক্ষতা, সময় ও পরিবেশ অনুধাবনের ক্ষমতা ইত্যাদি গুণের প্রতি বিশেষভাবে নজর দেয়া দরকার।

৩. শিক্ষাশিবির ও শিক্ষা বৈঠককে আলোচনা প্রধান না করে কর্মশালা, ব্রেইন স্টর্ম ও গ্রুপ। আলোচনা জাতীয় হাতে কলমে কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্যশীল করতে হবে।

৪. শিক্ষাশিবিরে আলোচনার সংখ্যা কমিয়ে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৫. শিক্ষাশিবির ও বৈঠকে আলোচনা বক্তাকেন্দ্রিক না হয়ে অংশগ্রহণ ধর্মী হওয়া প্রয়োজন। আলোচনাকালে শিক্ষার্থীদের অবদান রাখার সুযোগ দিতে হবে।

৬. কমপক্ষে ৩ মাস পূর্বে শিক্ষা শিবির ও ২ মাস পূর্বে শিক্ষা বৈঠকের বিস্তারিত পরিকল্পনা হয়ে যাওয়া দরকার। শিক্ষা শিবিরের কমপক্ষে ২ মাস পূর্বে বক্তা, স্থান ইত্যাদি নিশ্চিত হওয়া, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বিষয় অবহিত করা ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন হতে হবে।

৭. বিশেষ শিক্ষাশিবির সমূহের লক্ষ্যমাত্রার আলোকে পূর্বাহ্নেই সিলেবাস তৈরি করে কমপক্ষে

২ মাস পূর্বে তা নির্ধারিত শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষকদের কাছে পৌঁছাতে ও তাদের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. শিক্ষাশিবির ও শিক্ষা বৈঠকে পারতপক্ষে ওভারহেড প্রজেক্টর, কিপ চার্ট ইত্যাদি আধুনিক সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা দরকার।

৯. বিশেষ করে শিক্ষাশিবিরে আলোচনা, আলোচক, শিক্ষার্থী এবং সামগ্রিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উপর মূল্যায়ন করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

১০. প্রশিক্ষকগণ প্রশিক্ষণকালে শিক্ষার্থীদের সাথে সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করবেন

যাতে শিক্ষার্থীরা নিঃসঙ্কোচে মত প্রকাশ ও প্রশ্ন করতে পারে।

১১. আলোচনা/প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে দ্বীনি বিষয়ের পাশাপাশি

প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন বাস্তব ও সমকালীন বিষয়সমূহ রাখা।

১২. বিগত প্রোগ্রামের ত্রুটি বিচ্যুতিকে সামনে রেখে পরবর্তী প্রোগ্রামের মানোন্নয়ন করা।

(ঙ) স্পীকারস ফোরাম

বক্তা তৈরির উদ্দেশ্যে গঠিত হয় স্পীকারস ফোরাম। কয়েকজন মিলে একটি ফোরাম করতে হয়। ফোরামের অধিবেশন সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বা মাসিক হতে পারে। প্রয়োজনবোধে একই সপ্তাহে দু’তিন অধিবেশনেও হতে পারে। ফোরামের একজন সভাপতি থাকবেন। তিনি সদস্যদের মধ্য থেকেও হতে পারেন। তবে বক্তৃতায় অভিজ্ঞ হতে হবে। নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর সদস্যরাও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বক্তৃতা করবেন। সভাপতি ভুল-ত্রুটি উল্লেখ করে দেবেন এবং পরামর্শ দেবেন। স্পীকারস ফোরামের মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে বক্তৃতা শিল্প সম্পর্কে জ্ঞান জন্মে।

(চ) লেখক শিবির

আমাদের সংগঠন যুব সমাজের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ সাধনে সদা তৎপর। এ কারণে সাহিত্যমোদী ছাত্রদের নিয়ে লেখকশিবির করা যেতে পারে। স্বরচিত কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প ইত্যাদির আসর জমানো এ শিবিরের কাজ। সমকালীন সাহিত্যের গতিধারা ইসলামী সাহিত্য সৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা অনুষ্ঠান ও এর কাজ। লেখক শিবিরের তরফ থেকে দেয়াল পত্রিকা, পত্রিকা, সাময়িকী ইত্যাদি প্রকাশ করা যেতে পারে। তবে এর পূর্বে উর্ধ্বতন সংগঠনের অনুমোদন নিতে হবে।

(ছ) শববেদারী বা নৈশ এবাদত

আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহ আমাদের একমাত্র আশা-ভরসা ও শক্তির উৎস। আর আল্লাহর সাহায্য বেশি বেশি পাওয়া যায় তার সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠার ভিতর দিয়ে। প্রতিটি কর্মে প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর ভয়ে হৃদয়মন কম্পিত থাকা প্রয়োজন। তাঁর স্মরণে অন্তর সদা জাগ্রত থাকা চাই। এজন্য বিশেষ বিশেষ ইবাদত অনুষ্ঠানের প্রয়োজন। রাতের নিবিড় পরিবেশে যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে, সবাই যখন বিশ্রাম ও আরামের কোলে নিবিষ্ট হয়ে থাকে, তখন আপনি উঠুন। আপনি আপনার হৃদয়-মন দিয়ে রাব্বুল আলামীনের অতি নিকটে, তার সান্নিধ্যে চলে যান। হৃদয়ের অনুভূতি দিয়ে বলে উঠুন- “আল্লাহুম্মা লাকা আস্লামতু ওয়া বেকা আমানতু, ওয়া আলাইকা তাওক্কালতু ওয়া ইলাইকা আনাবতু ওয়া বেকা আসামতু, ওয়া ইলাইকা হাকামতু” হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম, তোমার উপর আস্থা স্থাপন করলাম, তোমার উপর ভরসা করলাম, তোমার দিকে আমার মনকে সম্পূর্ণ নিবিষ্ট করলাম, তোমার জন্য সংগ্রাম, সাধনা, ও আমার আন্দোলন এবং তোমারই কাছে আমার ফরিয়াদ। শত জটিল বাঁধা অতিক্রম করে আমাদেরকে এ কন্টকাকীর্ণ পথ চলতে হয়। সে জন্যে খোদার সান্নিধ্যে আসা প্রয়োজন। আল্-কুরআনে মুমিনদের পরিচয় দিয়ে আল্লহ বলেছেন – “ওরা সত্যবাদী, ধৈর্যশীল, বিনয়ী, আল্লাহর পথে খরচ করে এবং রাত্রির শেষভাগে মাগফেরাতের জন্য কাঁদে।” (আলে-ইমরান)

এদিকে লক্ষ্য রেখেই কর্মীদের মধ্যে খোদাভীতির সৃষ্টি এবং তার উৎকর্ষ সাধনের জন্য আমাদের সংগঠনে শববেদারীর ব্যবস্থা রয়েছে। এতে নির্বাচিত কর্মীরা যোগদান করেন। যোগদানকারীর সংখ্যা খুব কম অথবা খুব বেশি হওয়া ঠিক নয়। শববেদারী কোন মসজিদে বা সুবিধাজনক স্থানে সারা রাত বা রাতের শেষ তিন-চার ঘণ্টার জন্য হবে। এতে এক ঘণ্টাব্যাপী দরসে কুরআন অথবা দরসে হাদীস, একটি আলোচনা, তাহাজ্জুদের নামায, দোয়া ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকে।

এ প্রোগ্রাম সাধারণত : এশার নামাযের পর থেকে শুরু হয়। মাঝখানে একটু ঘুমিয়ে আবার শেষরাতে উঠতে হয়। শববেদারীতে আলোচনার বিভিন্ন বিষয়-খোদাভীতি, আল্লাহর আজাব নাজিলের বিধি, তওবা, দোয়া, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের অগ্নিপরীক্ষা প্রভৃতি সম্পর্কিত হতে হয়। শববেদারীর সাফল্য নির্ভর করে পরিবেশ বজায় রাখার উপর। শববেদারীতে সাংগঠনিক বা অন্য কোন প্রোগ্রাম থাকা ঠিক নয়। এতে শববেদারীর পরিবেশ নষ্ট হয়।

শববেদারীতে নিম্নোক্ত কর্মসূচি থাকতে পারে।

কার্যসূচীঃ

  • উদ্বোধন ৫ মি.

  • দারসে কুরআন/হাদীস ১ ঘণ্টা

  • বিশ্রাম ২ ঘণ্টা

  • ব্যক্তিগত নফল এবাদত ১ ঘন্টা

  • শেষ রাত্রে ১টি আলোচনা ১ ঘণ্টা

  • সমাপনী/মুনাজাত ১ ঘণ্টা

(জ) সামষ্টিক ভোজ

মাঝে মাঝে কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর করার জন্য সামষ্টিক খাওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে প্রত্যেক কর্মী নিজের খাওয়া এক জায়গায় নিয়ে আসবে অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহযোগীতা দিয়ে খাদ্য প্রস্তুত করবে এবং সকলে মিলে একত্রে বসে খাবে। খাওয়ার আগে বা পরে বক্তৃতা বা আলোচনা চলবে। এ প্রোগ্রামে যথেষ্ট আনন্দ ও শিক্ষণীয় বিষয় আছে “বুনইয়ানুম মারছুছ” (সীসা ঢালা প্রাচীর) এর ন্যায় পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হবে।

(ঝ) ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষণ

সংগঠনের প্রত্যেক জনশক্তিকে বৈঠকে ব্যক্তিগত রিপোর্ট পেশ করতে হয়। এ রিপোর্ট কর্মী তৈরির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। যে কর্মীর রিপোর্ট যত উন্নত, সে তত উন্নত কর্মী। রিপোর্ট কর্মীদের যোগ্যতা বাড়ায়, নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে। রিপোর্ট হচ্ছে আয়না যা জীবনের ত্রুটিপূর্ণ দিকগুলো প্রত্যেকের সামনে তুলে ধরে। প্রত্যেক কর্মীকে ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষণ করতে হয় তবে পরিস্থিতি ও পরিবেশ অনুযায়ী সংরণের পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়। মাঝে মাঝে পূর্বের রিপোর্টের সংগে বর্তমান রিপোর্ট তুলনা করে দেখতে হয়। এতে উন্নতি, অবনতি বা স্থবিরতা ধরা পড়ে। রিপোর্ট শুধু সংরক্ষণ করলে চলে না। নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী সভাপতিকে দেখাতে হয়। সভাপতি রিপোর্টের উপর মন্তব্য এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। তবে কর্মী সভায় সভাপতি ব্যক্তি বিশেষের উপর মন্তব্য না করে সাধারণ মন্তব্য পেশ করেন। ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ কর্মী হওয়ার জন্য ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষণ ও দেখানো অতি প্রয়োজনীয়।

ব্যক্তিগত রিপোর্টের ব্যাখ্যা

নিম্নে ব্যক্তিগত রিপোর্টের বিষয়সমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা পেশ করা হলো-

কুরআন অধ্যয়নঃ

ইসলামী জ্ঞানের মূল উৎস হল আল-কুরআন। তাই দৈনন্দিন জীবনে ইসলামী বিধান মেনে চলার জন্য পবিত্র কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন অপরিহার্য। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রতক্ষ্যভাবে কুরআনের আলোকে জীবন-যাপনে অভ্যস্ত করে তোলার উদ্দেশ্যেই নিয়মিত কুরআন অধ্যয়নের প্রতি উৎসাহিত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো আল-কুরআনের মূর্ত প্রতীকরূপে নিজের জীবনকে গড়ে তোলার মাধ্যম খোদার মনোনীত ও অমনোনীত কাজ সম্পর্কে অবহিত হয়ে থাকা। সুতরাং কুরআন অধ্যয়ন দ্বারা খোদার পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় কাজের তালিকা প্রস্তুত করে নিয়ে তাঁর পছন্দনীয় কাজে আত্মনিয়োগ এবং অপছন্দনীয় কাজ বর্জন করে চলতে হবে। প্রত্যহ সকালে ফজরের নামাযের পরের সময়টা কুরআন অধ্যয়নের সর্বোত্তম সময়। তাছাড়া নিয়মতান্ত্রিকতা ও ধারাবাহিকতার প্রতিও লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

হাদীস অধ্যয়নঃ

হাদীস ইসলামী জ্ঞানের দ্বিতীয় উৎস। কুরআনকে বুঝতে হলে হাদীস অধ্যয়ন অপরিহার্য। কারণ, কুরআনের ব্যাখ্যাই হচ্ছে হাদীস। তাই প্রত্যহ কুরআন অধ্যয়নের সাথে সাথে হাদীস অধ্যয়নের দিকেও নজর দেয়া প্রয়োজন। হাদীস অধ্যয়নের সময় পঠিত হাদীসের সাথে নিজের জীবনকে দেখতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে হাদীসের আলোকে নিজের চরিত্রকে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। প্রত্যহ কমপক্ষে দু’তিনটি করে হাদীস নির্দিষ্ট সময়ে অধ্যয়ন করার চেষ্টা করা উচিত।

ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়নঃ

যে কোন আদর্শবাদী আন্দোলনের কর্মীদের স্বীয় আদর্শের জ্ঞান লাভ করা, আদর্শের প্রতি অটুট বিশ্বাস স্থাপন করা ও আদর্শ মাফিক চরিত্র গঠন করা একান্তই অপরিহার্য। ইসলামী আন্দোলনের যোগ্য কর্মী হবার জন্য ইসলামী আদর্শের পর্যাপ্ত জ্ঞানের সাথে সাথে সমকালীন বিশ্বের যাবতীয় মতাদর্শ সম্পর্কেও পূর্ণভাবে ওয়াকিফহাল হওয়া প্রয়োজন। ইসলাম ও অনৈসলামের মৌলিক পার্থক্য এবং ইসলামী আদর্শের শাশ্বতরূপ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ না করে এ আন্দোলনে টিকে থাকা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে কেবল গদবাঁধা কতগুলো মুখস্থ বুলি শিখে নেয়া যথেষ্ট নয় বরং গভীর অধ্যয়ন ও অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের মধ্যে চিন্তার মৌলিকত্ব সৃষ্টি করা অপরিহার্য। নিয়মতান্ত্রিকতা লক্ষ্য করে অধ্যয়ন করাই এর অন্যতম সহায়ক।

পাঠ্যপুস্তুক অধ্যয়ন ও ক্লাসে উপস্থিতিঃ

আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী ভালো ছাত্র এবং ভাল মুসলিমরূপে গড়ে ওঠাই আমাদের মৌলিক কাজ। ছাত্রত্বকে বাদ দিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে কল্পনাও করা যায় না। সুতরাং শিবির-কর্মীদের নিয়মিত কাসে যোগদান এবং পাঠ্যপুস্তুক অধ্যয়নে অধিক তৎপর হতে হবে এবং এটাকে আন্দোলনেরই একটা অপরিহার্য কাজ মনে করতে হবে। অন্যান্য কাজের ন্যায় পাঠ্যপুস্তুক অধ্যয়নের ক্ষেত্রে শিবির নিয়মতান্ত্রিকতার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। যারা নিজের দোষে বা অমনযোগিতার কারণে ক্লাসের পড়া লেখার প্রতি ক্ষতি সাধন করে তারা প্রকারান্তরে শিবিরেরই ক্ষতি করে। যারা ব্যক্তিগত পড়াশুনা,পাঠ্যপুস্তুক অধ্যয়ন ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে ভারসাম্য রক্ষা করে চলে তারাই শিবিরের দৃষ্টিতে আদর্শ কর্মী।

জামায়াতে নামায আদায়ঃ

আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্যের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শিত হয় নামাজের মাধ্যমে। আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের এটাই সর্বোত্তম উপায়। জামায়াতে নামায আদায়কেই ইকামাতে সালাত বলা হয়েছে। মুমিনের জীবনকে সুশৃংখলভাবে গড়ে তোলার এ এক উৎকৃষ্ট পন্থা। যার নামায যত উন্নত আল্লাহর কাছে সে ততই মর্যাদা সম্পন্ন। বস্তুতঃ নামায ধাপে ধাপে বান্দাকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয় বলেই বলা হয়েছে- ‘আসসালাতু মেরাজুল মুমিনীন’ ক্রমান্বয়ে এই নামাযকে উন্নত করার উদ্দেশ্যে একে রিপোর্টের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। জামায়াতে নামায আদায়ের মাধ্যমে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দিককে সর্বাঙ্গীন সুন্দর করে তোলা এর মূল লক্ষ্য।

কর্মী যোগাযোগঃ

আন্তরিক পরিবেশে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একে অপরকে আন্দোলনের কাজে উৎসাহিত করা, একে অপরের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা, পারস্পরিক পরামর্শ ও সমালোচনার মাধ্যমে ব্যক্তি গঠন ও সংগঠনের সামগ্রিক উন্নতি বিধানে তৎপর হওয়াই এর প্রধান লক্ষ্য। বিশুদ্ধ নিয়ত এবং স্বচ্ছ আন্তরিকতা ছাড়া এটি ফলপ্রসু হতে পারে না। কর্মী যোগাযোগ পরিকল্পনাবিহীন অথবা উদ্দেশ্যহীন সাক্ষাতের নাম নয়।

প্রত্যেক শাখার প্রতিটি কর্মীকে একটা টার্গেট তৈরি করে কর্মী যোগাযোগ করতে হয়। অনগ্রসর কর্মীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাকে হেকমতের সাথে অগ্রসর করা এবং অগ্রসর কর্মীর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেকে তার মানে উন্নীত করার প্রচেষ্টা চালানোই কর্মী যোগাযোগের মুখ্য উদ্দেশ্য। এ অনুভূতি নিয়ে যেখানে কর্মী যোগাযোগ হয় না সেখানে কর্মীদের মধ্যে চিন্তার ঐক্য স্থাপিত হতে পারে না,পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হতে পারে না এবং সংগঠন কখনো হতে পারে না গতিশীল। এক্ষেত্রে একটা বিষয় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যে, কর্মী যোগাযোগ কোন কর্মীর দোষ অনুসন্ধানের জন্য নয়-তার সংশোধনের জন্যই করা হয়। এজন্য যার সাথে আপনি যোগাযোগ করবেন তার ছিদ্রান্বেষণ না করে তার গুণগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিন এবং তার মধ্যে যে সকল দোষত্রুটি রয়েছে সেগুলো দূর করার জন্য তার সামনে আপনার নিজের চরিত্র, কর্মজীবন, আচার-আচরণ ইত্যাদিকে বাস্তব আদর্শ হিসেবে তুলে ধরুন।

বন্ধু,সমর্থক যোগাযোগ ও বই বিতরণঃ

আমাদেরকে কুরআনে বর্ণিত হেকমত অনুযায়ী দাওয়াতী কাজ আঞ্জাম দিতে হবে এবং এ উদ্দেশ্যেই বন্ধু ও সমর্থক যোগাযোগ করতে হয়। কারো সাথে শিবির সম্পর্কে দু’চার মিনিট আলাপ করলেই দাওয়াত পৌঁছানো হয় না। বরং কমপক্ষে তিন/চার জন বন্ধু ঠিক করে প্রতি সপ্তাহে তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করা দরকার, যাতে করে একজন বন্ধু সমর্থকে উন্নিত হতে পারে। এখানেও বিশুদ্ধ নিয়ত এবং অকৃত্রিম আন্তরিকতা আবশ্যক। মনে রাখবেন কৃত্রিমতা, অভিনয়সূচক আচরণ বা সাময়িক লোভ-লালসার মাধ্যমে কাউকে কোনদিন ইসলামী আন্দোলনের কর্মী করা যায় না। পক্ষান্তরে নিজে ইসলামী চরিত্র সৃষ্টির কাজে আত্মনিয়োগ করে নিছক আল্লাহর জন্য মানুষকে এ পথে আহ্বান জানালে তা ফলপ্রয়সূ না হয়ে পারে না।

ছাত্রদের মগজে পুঞ্জিভূত আবর্জনা পরিষ্কার করে তাদেরকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার জন্যে পাত্র বুঝে পুস্তুক পরিবেশন দাওয়াতী কাজের উত্তম হাতিয়ার। প্রকৃতপে ইসলামী আন্দোলন বুঝার ক্ষেত্রে প্রধান বাঁধা হচ্ছে অজ্ঞতা। টার্গেটকৃত বন্ধু ও সমর্থকদেরকে বই বিতরণ ও পড়ানো ছাড়া দাওয়াতী কাজ ফলপ্রসূ হতে পারে না। কোন ব্যক্তিকে বই দেয়ার আগে তার মনে পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি;পড়বার পর ঠিকমত বুঝলো কি না সে খবর নেয়া এবং সুযোগ মত আন্দোলনের দিকে টেনে আনাই আমাদের কাজ।

সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনঃ

উপরে বর্ণিত কাজগুলো ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যেক কর্মীকে নিজের এবং অন্যের জীবন গঠনের জন্যে অবশ্যই করতে হয়। সাথে সাথে প্রত্যেক কর্মীকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং তার জন্যে নিয়মিত কিছু সময় ব্যয় করতে হয়। প্রত্যেক জেলা, শাখা ও উপশাখা সভাপতির সাংগঠনিক দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সভাসমূহ পরিচালনা, পরিকল্পনা তৈরি, কর্ম বন্টন ও কর্মী পরিচালনা, বিভিন্ন বিভাগের কাজের তদারকী, ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কর্মীদের এগিয়ে আনা,কর্মীদের ব্যক্তিগত রিপোর্ট দেখা এবং উর্ধ্বতন সংগঠনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা।

উল্লেখ্য বন্ধু,সমর্থক,মেধাবী ছাত্র ও শুভাকাংখী যোগাযোগ দাওয়াতী কাজের অংশ। এছাড়াও প্রত্যেক কর্মীর দাওয়াতী কাজ, কর্মী যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক অনুষ্ঠানে যোগদান এবং সংগঠন কর্তৃক দৈনন্দিন যেসব দায়িত্ব অর্পিত হয় সেগুলোও সাংগঠনিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

পত্র-পত্রিকা পাঠঃ

চলমান বিশ্বের খবরাখবর রাখার জন্যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং সাময়িকীর সাথে সম্পর্ক রাখা অপরিহার্য। একজন ছাত্র হিসেবে, সচেতন নাগরিক হিসেবে সর্বোপরি একটি প্রাণবন্ত আন্দোলনের কর্মী হিসেবে পত্র-পত্রিকার সাথে ওয়াকিফহাল হওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং এ সম্পর্কে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করার মত যোগ্যতা অর্জনও অত্যাবশ্যক।

শরীর চর্চাঃ

সুস্থ দেহ ও সুন্দর মন ছাড়া একজন মানুষের স্বাভাবিক বিকাশ ঘটতে পারেনা। এজন্য নিয়মিত শরীর চর্চা আবশ্যক।

আত্ম-সমালোচনা

আত্মসমালোচনা বলতে নিজ নিজ কাজের সামগ্রিক খতিয়ান নেয়াকেই বুঝায়। বস্তুতঃ কোন ব্যক্তি নিয়মিত নিজস্ব কাজের খতিয়ান নিলে তার জীবন ক্রমাগত উন্নত না হয়ে পারে না। বিশেষ করে যারা খোদাকে হাজির নাজির জেনে নিজ নিজ কাজের পর্যালোচনা করে তারা দ্বীনি দায়িত্ব পালনে কোন অবস্থাতেই শৈথিল্য দেখাতে পারে না। আখেরাতের সাফল্য যাদের একমাত্র কাম্য,খোদার সন্তষ্টির আশা এবং অসন্তোষের ভীতির মাঝ পথে যারা দন্ডায়মান, তাদের জীবনে আত্ম-সমালোচনার জন্যে নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নেয়া ভালো। আত্ম-সমালোচনার সময় নিজের মনে এ অনুভূতি সৃষ্টি করতে হবে যেন রোজ কেয়ামতে পরম পরাক্রমশালী হাকিমের সামনে নিজের আমলের পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

(ঞ) দোয়া ও নফল ইবাদত

বাতিলের সয়লাবে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে মান রক্ষা করা দুরূহ কাজ। মান ঠিক রাখার জন্যে কর্মীদের অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। ফরয,ওয়াজিবসমূহ আদায় করে দু’একটা ভালো কাজ সম্পন্ন করা এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। আল্লাহর পছন্দনীয় কাজে সব সময় জড়িত থেকেই এটা করা যেতে পারে। অর্থাৎ এজন্যে প্রয়োজন নফল ইবাদতের। নফল ইবাদতের ভেতর সর্বোৎকৃষ্ট হচ্ছে নফল নামায। নফল নামাযের ভেতর তাহাজ্জুদের গুরুত্ব সর্বাধিক। মাঝে মাঝে ব্যক্তিগতভাবে রাতে জেগে কর্মীরা তাহাজ্জুদ নামায আদায় করতে পারেন। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্যে তাহাজ্জুদ নামাযের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আমাদের নেতা রসূলে মকবুল (সাঃ) নামাযের গুরুত্ব বিভিন্নভাবে প্রকাশ করেছেন। অন্যান্য ওয়াক্তের নামাযের সময়ে যে নফল নামায প্রচলিত রয়েছে সেদিকেও কর্মীদের মনোযোগ দেয়া উচিত। এরপরেই রয়েছে নফল রোযার গুরুত্ব। আমরা যুবক। এ বয়সে চুপ করে বসে থাকা যায় না। ভালো কাজ না পেলে খারাপ কাজে আত্মনিয়োগ করাটাই স্বাভাবিক। এ বয়সে দৈহিক চাহিদাও বেশি। এগুলো যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে বিপর্যয় অনিবার্য। নফল রোযা কর্মীদেরকে এক্ষেত্রে সাহায্য করবে। এ কারণে রসূলুল্লাহ (সাঃ) যুবকদেরকে প্রতিমাসে দু’টি করে রোযা রাখার উপদেশ দিয়েছেন। রোযা একদিকে যেমন দৈহিক চাহিদা নিয়ন্ত্রিত ও স্তিমিত করে অপরদিকে তেমনি আত্মাকেও পবিত্র করে তোলে। আল্লাহর নেয়ামতের শোকর করা, প্রতিটি কাজের শুরুত্ব শেষে নির্ধারিত দোয়া করা, সফরে, বিশ্রামে, পারস্পরিক দেখা সাক্ষাতে ওজুতে, জায়নামাজে, সুখে-দুঃখে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে সমস্ত দোয়া পড়তে বলেছেন, সেগুলি অভ্যাস করার প্রচেষ্টা চালানো উচিত। দোয়া অস্তিতা ও দুশ্চিন্তা দূর করে,হৃদয়ে এনে দেয় প্রশান্তি।

(ট) এহতেছাব বা গঠনমূলক সমালোচনা

ইসলামী আন্দোলনের এক কর্মী অপর কর্মীর আয়না স্বরূপ। তাই প্রত্যেক কর্মীকে অপর কর্মীর ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধন এবং দুর্বলতা থেকে হেফাজত করার চেষ্টা করতে হবে। ত্রুটি বিচ্যুতি দূর করার উপায় হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মীর সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে হবে এবং তার দুর্বলতাগুলোকে জানিয়ে দিতে হবে। কারো দোষ দেখানো বড় কঠিন কাজ। এজন্যে সময়, মেজাজ, মনোভাব ইত্যাদি বিবেচনা করে নেহায়েত একজন শুভাকাংঙ্খী হিসেব তার দোষ-ত্রুটি তাকে জানাতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে প্রচেষ্টা চালানোর পর সংশোধন না হলে কর্মী, সাথী বা সদস্য বৈঠকে এহতেছাবের সময় তা তুলে ধরতে হবে। মনে রাখতে হবে সমালোচনা গঠনমূলক হতে হবে। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা অথবা কারো ত্রুটি শুধু শুধু তালাশ করা শুভ লক্ষণ নয়। যার দোষ তুলে ধরা হবে তার কর্তব্য হচ্ছে ত্রুটির স্বীকৃতি দেয়া, সংশোধনের জন্যে দোয়া কামনা করা এবং প্রচেষ্টা চালানো। কোন কর্মীর ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও কারো মনে ভুল ধারণা থাকতে পারে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্মী যখন কারণ দর্শাবেন বা বুঝিয়ে দেবেন তখন তা ঐকান্তিকতার সাথে মেনে নেয়া ও ভুল ধারণা অন্তর থেকে মুছে ফেলা কর্তব্য। আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক হচ্ছে ভালোবাসার সম্পর্ক। ভালোবাসার বা ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে উঠা সম্পর্কে ‘ভীতি’ প্রশ্রয় পেতে পারে না। এহতেছাব যখন স্থিমিত হয়ে যাবে, তখন গোটা আন্দোলন তার গতিশীলতা হারিয়ে ফেলবে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা কৃত্রিমতা আসবে। পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস কমে যাবে। অতএব মেজাজ ও নিয়ম-নীতি অনুযায়ী এটা চালু রাখা অত্যন্ত জরুরী।

(ঠ) আত্মসমালোচনা

একজন কর্মীর জীবনকে গতিশীল রাখার জন্য আত্ম সমালোচনা বা আত্ম বিশ্লেষণ অপরিহার্য। এর চর্চা হতে থাকলে মনে অহংকার সৃষ্টি হতে পারে না। কোন কাজ করার পর প্রদর্শনেচ্ছা জন্মাতে পারে না। জীবন থেকে ত্রুটি বিচ্যুতি ক্রমান্বয়ে দূর হতে থাকে। তাই হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) যথার্থই বলেছেন “আল্লাহর কাছে হিসেব দেয়ার আগে নিজেই নিজের হিসাব নাও।” আত্ম-সমালোচনার সময় ভুলের জন্যে তওবা করতে হয়্ তওবা ব্যতিরেকে আত্ম-সমালোচনার ফল পাওয়া যায় না। আত্ম-সমালোচনার যেরূপ নির্দিষ্ট সময় রয়েছে তদ্রুপ তওবার জন্যেও নিয়ম রয়েছে। তাই প্রথমে তওবার নিয়মাবলী উল্লেখ করা হচ্ছে।

তওবার নিয়ম

  • সর্বপ্রথম ঐকান্তিকতার সাথে নিজ ভুলের স্বীকৃতি দেয়া। এটা সহজ কাজ নয়।

  • মানুষ বড় একটা পাপ করেও তা “জাষ্টিফাই” করতে চায়।

  • ভুলের জন্যে আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া।

  • দ্বিতীয়বার ভুল না করার জন্যে ওয়াদা করা এবং ওয়াদাকে কার্যকরী করার বাস্তব চিন্তা করা।

  • নামায,রোযা বা আর্থিক কুরবাণীর বিনিময়ে ভুলের কাফ্ফারা আদায় করা।এখানে উল্লেখযোগ্য যে,একবার তওবা করার পর তা ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করলে কাফ্ফারা আদায় করা ওয়াজেব। আর উপরে যে কাফ্ফারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা তওবার পূর্ণতার জন্যে।

আত্ম সমালোচনার পদ্ধতিঃ

  • সময় নির্বাচন : আত্ম-সমালোচনা করার ভালো সময় হচ্ছে শোয়ার পূর্বমুহুর্ত। এর চেয়ে ভালো সময় হচ্ছে ফজর নামাজের পর। সবচেয়ে ভালো সময় এশার নামাজের পর।

  • প্রথম পর্যায়ে আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে জায়নামাজে বসুন। মনে এ চিন্তার উদ্রেক করুন যে আল্লাহ আপনাকে দেখছেন। আপনি সেই রাব্বুল আলামীনের সামনে বসে আছেন; যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর হাতেই আপনার জীবন ও মৃত্যু। তিনি রহমান, রহীম ও কাহ্হার। আপনার অন্তরের নিভৃত কোণের খবরও তিনি রাখেন। মস্তিষ্ক দিয়ে আপনি কি চিন্তা করেছেন তা তিনি ভালোভাবে জানেন। তিনি ইনসাফগার। আপনার উপর তিনি কখনও জুলুম করেন না।

  • দ্বিতীয় পর্যায়ে আপনি আপনার সারাদিনের কর্মব্যস্ততা স্মরণ করুন। আপনি যে সমস্ত ভালো কাজ করেছেন তার জন্য শুকরিয়া আদায় করুন এবং যে ভুল করেছেন তার জন্যে তওবা করুন।

  • তৃতীয় পর্যায়ে আজকে আপনি যে সব ফরজ ওয়াজেব আদায় করেছেন তা চিন্তা করুন। এসব আদায়ের কালে আপনার আন্তরিকতা এবং মনোযোগ যথার্থ ছিলো কিনা ভেবে দেখুন।

  • চতুর্থ পর্যায়ে আপনি আপনার আজকের সাংগঠনিক কাজ নিয়ে চিন্তা করুন। যে দায়িত্ব আপনার উপর ছিল তা কি পালন করেছেন? এজন্য আপনার সময় ও সামর্থ্য যা ছিল আপনি কি তা পুরাপুরি ব্যয় করেছেন?

  • পঞ্চম পর্যায়ে আপনি আপনার আজকের ব্যবহারিক জীবন (মুয়ামেলাত) সম্পর্কে চিন্তা করুন।

  • শেষ পর্যায়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন। ইনশাআল্লাহ এভাবে আত্ম-সমালোচনা করলে কর্মীদের মান বৃদ্ধি পাবে এবং জীবন তাদের পুত-পবিত্র হয়ে উঠবে।