এই ওয়েবসাইটটি এখনো নির্মাণাধীন
Chhatrashibir
Missing translation "site-name" for locale "bn-bd"
বাংলা
Eng
العربية
বন্ধ করুন
শহীদ মুহাম্মদ মঈনুল ইসলাম
শহীদ মুহাম্মদ মঈনুল ইসলাম
শাহাদাতের তারিখ
:
১২ আগস্ট, ২০২৪

শহীদ মুহাম্মদ মঈনুল ইসলাম ১৯৯৯ সালের ২৮ অক্টোবর গোপালঞ্জ জেলার কেকনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো. কামরুল ইসলাম ও মাতা মোছা. মাহফুজা বেগমের অনেক আদরের সন্তান ছিলেন। ইসলামিক বিষয়ে পড়াশোনা করানোর মাধ্যমে ছেলেকে আখেরাতে মুক্তির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। শহীদ মইনুল ইসলাম বিয়ে করেছিলেন কিন্তু ঘর সংসার করা খুব বেশি দিন সম্ভব হয়নি। পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা ছিল শহীদ মইনুল ইসলামের। মঈনুল ইসলামের দুই ভাই মোস্তাফিজুর রহমান এবং মাহমুদুর রহমান হেফজখানায় লেখাপড়া করেন। পিতা মসজিদে মুয়াজ্জিনের চাকরি করে সংসার চালান।

গত পাঁচ বছর থেকে শহীদ মঈনুল ইসলাম ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি ঢাকার নগরকান্দার মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায় (কওমী) অল্প বেতনে চাকরি করতেন। চাকরির পাশাপাশি তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ছাত্রদের সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেখান থেকেই তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনে যুক্ত হন। সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আন্দোলনে তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন।

দীর্ঘ আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট ২০২৪ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয় ও হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। শেখ হাসিনার পালানোর খবরে দেশব্যাপী বিজয় উল্লাস মিছিল বের হয়। শহীদ মঈনুল ইসলাম যোহরের নামাজের পর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার রোডে বিজয় মিছিলে যুক্ত হন। সকাল থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা আন্দোলনে ছিলেন। দুপুরে বাড়ি থেকে আবার তিনি বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে রাস্তায় নেমে আসেন। বিভিন্ন জায়গায় স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসর ও পুলিশ বাহিনী গুলি চালাচ্ছিলো তখনো। এমনকি এই গণহত্যায় জড়িত সন্ত্রাসী পুলিশ বাহিনী হেলিকপ্টার থেকে সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপরে নির্বিচারে গুলি চালায়।

একপর্যায়ে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে। অনেকেই বুঝে ওঠার আগেই পুলিশের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরই মাঝে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে হঠাৎ মইনুল ইসলামের বুকে গুলি লেগে পেছন দিক থেকে বেরিয়ে যায়। এটি সাধারণ কোনো গুলি নয়। এটি ছিল সন্ত্রাসী পুলিশ বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে স্পেশাল রাইফেল দিয়ে ছোড়া গুলি। মঈনুল ইসলামকে সাধারণ জনতা ধরাধরি করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে দীর্ঘ ৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শাহাদাৎ বরণ করেন। বিজয় মিছিলে যুক্ত থাকলেও তিনি পার্থিব প্রকৃত বিজয়ের স্বাদ তিনি গ্রহণ করতে পারেননি। তবে তিনি শহীদ মঈনুল ইসলামকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এক নজরে শহীদ মুহাম্মদ মঈনুল ইসলামঃ

নাম: শহীদ মুহাম্মদ মঈনুল ইসলাম
পিতা:মো. কামরুল ইসলাম
জন্ম তারিখ: ২৮ অক্টেোবর ১৯৯৯
ভাই বোন: তিন ভাই-বোন
স্থায়ী ঠিকানা: কেকনিয়া, গোপালগঞ্জ সদর
পেশা: মাদ্রাসা শিক্ষক
শাহাদাতের তারিখ: ১২ আগস্ট ২০২৪ (আহত হন- ৫ আগস্ট ২০২৪)
শাহাদাতের কারণ: বিজয় মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত
শাহাদাতের স্থান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
সমাধিস্থল: গোপালগঞ্জ সদর