২০০২ সালের ৩ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ঢাকায় অবস্থান হওয়ায় এই শাখাকে অনেকে “রাজধানীর রাজধানী” বলে অভিহিত করে থাকেন। একইসাথে এটি শহিদ মাসুম-শিপনের শাখা নামেও পরিচিত। ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখা প্রশাসনিক থানা ও ওয়ার্ড ভিত্তিক বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত। এই শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. ধানমন্ডি (১৪, ১৫ নং ওয়ার্ড)
২. হাজারীবাগ (১৪, ১৫, ৫৫, ২২ নং ওয়ার্ড)
৩. কামরাঙ্গীরচর (৫৫, ৫৬, ৫৭ নং ওয়ার্ড)
৪. লালবাগ (২৩, ২৪, ২৫, ২৬ নং ওয়ার্ড)
৫. চকবাজার (২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১ নং ওয়ার্ড)
৬. বংশাল (৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫ নং ওয়ার্ড)
৭. পল্টন (১৩, ২০ নং ওয়ার্ড)
৮. মতিঝিল (৮, ৯, ১০ নং ওয়ার্ড)
৯. রমনা (১৯ নং ওয়ার্ড)
১০. শাহজাহানপুর (১১, ১২ নং ওয়ার্ড)
১১. খিলগাঁও (১, ২, ৩, ৭৪, ৭৫ নং ওয়ার্ড)
১২. সবুজবাগ (৪, ৫, ৭৩ নং ওয়ার্ড)
১৩. মুগদা (৬, ৭, ৭১, ৭২ নং ওয়ার্ড)
শুরু থেকেই এই শাখা ছিল আন্দোলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক ময়দান। রাজপথের প্রতিটি সংগ্রামে এর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। বিশেষ করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ১/১১ অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ফ্যাসিবাদী সময়ের সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ সকল আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ঢাকা মহানগর পুর্ব শাখার। আন্দোলনের প্রতিটি অধ্যায়ে এই শাখার কর্মীরা শাহাদাতের অদম্য আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
এই দীর্ঘ পথচলায় শাহাদাতের অসীম উদাহরণ স্থাপন করেছেন—শহিদ মুহাম্মদ আব্দুল খালেক, শহিদ মুহাম্মদ সাইজুদ্দীন, শহিদ আতিকুল ইসলাম দুলাল, শহিদ হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপন, শহিদ সাইফুল্লাহ মু. মাসুম।
তাঁদের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে আজও সংগ্রামের প্রেরণা জোগায়। প্রখ্যাত আলেম শহিদ আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, শহিদ আব্দুল মালেকসহ অসংখ্য ত্যাগী ও আদর্শবান ব্যক্তিত্বের পদচারণায় এ শাখা আলোকিত হয়েছে যারা আজও প্রজন্মকে আলোকিত করে চলেছেন।
ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখা শুধু আন্দোলনের ইতিহাসই গড়েনি, এটি তৈরি করেছে অগণিত সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মানবসম্পদ, যারা আজ দেশের জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন। শহিদ ও গাজীদের অনুপ্রেরণায় আমাদের এই ইনসাফভিত্তিক সংগ্রামী যাত্রা আজও অব্যাহত।